ইনস্টিটিউট সম্পর্কিত

রিহ্যাব ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (আরটিআই)

রিহ্যাব এ দেশের একটি শীর্ষ ব্যবসায়িক এসোসিয়েশন, যারা সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশ ও জনগণকে সহায়তা করছে। বর্তমানের পদক্ষেপ হিসেবে দেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরীতে অবদান রাখার জন্য এ ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছে। রিহ্যাবের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব নসরুল হামিদ, এম.পি এর একনিষ্ঠ প্রচেষ্ঠার ফসল রিহ্যাব প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট। তার সহায়তায় ইতিমধ্যে সরকার থেকে ২৪ (চব্বিশ) কাঠা জমি ও বরাদ্দ পেয়েছে উত্তরা ৩য় পর্বে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জনাব শামসুল আলামিন-এর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের মে মাসে রিহ্যাব ট্রেনিং ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। ইহা সরকারের কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি ( এনএসডিএ) কর্তৃক অনুমোদিত।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ বিভাগ-এর একটি ‘ফ্লাগশিপ’ প্রকল্প হচ্ছে স্কিলস ফর এম্পয়মেন্ট ইনভেষ্টমেন্ট প্রোগ্রাম (SEIP)। ২০১৪ সালের জুলাই মাস হতে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। বাজার চাহিদার আলোকে দক্ষ শ্রমিকের সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের শিল্পখাতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। ২০২৪ সালের মধ্যে সাড়ে ৮ (আট) লাখ দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রকল্পটি কাজ করছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষনার্থীদের অন্তত: ৬০ শতাংশের চাকুরীর সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। নিশ্চিত করা হচ্ছে অন্তত: ৩০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ। সম্পুর্ন সরকারী খরচে প্রশিক্ষণ ছাড়া ও প্রশিক্ষণার্থীরা পাচ্ছেন যাতায়াত ও আপ্যায়ন ভাতা এবং প্রশিক্ষণ শিক্ষা উপকরন। পাশাপাশি অতি দরিদ্রদের জন্য রয়েছে বিশেষ বৃত্তি। এছাড়া প্রশিক্ষণে বিশেষ অগ্রাধিকার পাচ্ছে সমাজের অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠি।
এ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ইন্ডাষ্ট্রি এসোসিয়েশনের সংগে চুক্তি সম্পাদন করে ঐ সকল এসাসিয়েশনের নিজস্ব কিংবা আউটসোর্সিং ইন্সটিটিউটের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে দেশের স্বল্প শিক্ষিত বেকার জনগনের জন্য স্বল্প মেয়াদী কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচী।
দেশের নির্মাণ খাতের অগ্রনী প্রতিষ্ঠান রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) এসইআইপি প্রকল্পের সংগে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ২০১৮ সালের অক্টোবর মাস হতে পাঁচটি ট্রেডে তিন মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণ কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে। ট্রেডগুলো হচ্ছে- (১) ইলেক্ট্রিক্যাল ইন্সটলেশন এ্যান্ড মেইনটেন্যান্স, (২) প্লাম্বিং এ্যান্ড পাইপ ফিটিংস, (৩) ম্যাশনরী, (৪) স্টীল বাইন্ডিং এ্যান্ড ফ্যাব্রিকেশন, (৫) টাইলস এ্যান্ড মার্বেল ওয়ার্কস।
রিহ্যাব এর নিজস্ব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান রিহ্যাব ট্রেনিং ইন্সটিটিউট (আরটিআই) ছাড়াও আউটসোর্সকৃত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কর্মসূচী বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩টি ট্রাঞ্চে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসইআইপি-রিহ্যাব প্রকল্পটিকে ট্রাঞ্চ-ওয়ারী নিম্নরূপ টার্গেট দেয়া হয়েছে:
ট্রাঞ্চ-১ (অতিরিক্ত) = ৬,০০০
ট্রাঞ্চ-২                    = ৫,০০০
ট্রাঞ্চ-৩                    = ১০,০০০
মোট:                       = ২১,০০০

আরটিআই. এসইআইপি-রিহ্যাব প্রকল্পের আওতায় ট্রাঞ্চ-২ এর প্রশিক্ষণ ডিসেম্বর ২০২০ সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে ট্রাঞ্চ-৩ এর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে যা ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত চলমান থাকবে। ট্রাঞ্চ-ওয়ারী হিসাব নিম্নরূপ:
ট্রাঞ্চ-২:

ক্রমিক নং বিবরণ সংখ্যা মন্তব্য
০১) টার্গেট ৭৪০
০২) এনরোল্ড ৭৬২ ৫৭ (মহিলা)
০৩) এ্যাসেসমেন্ট ৭৩৪
০৪) সার্টিফিকেশন ৭৩৪
০৫) চাকুরী দেয়া হয়েছে ৫৪৩

ট্রাঞ্চ-৩:

ক্রমিক নং বিবরণ সংখ্যা মন্তব্য
০১) টার্গেট ১,৩৭৫
০২) এনরোল্ড ৩৭৬ ১১০ (মহিলা)
০৩) এ্যাসেসমেন্ট ২২৩
০৪) সার্টিফিকেশন ২২৩
০৫) চাকুরী দেয়া হয়েছে ১২২ (চাকুরী দেয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে)

At A Glance Rehab Training Institute Activity:

কেন রিহ্যাব ট্রেনিং ইনস্টিটিউট

রিহ্যাব এ দেশের একটি শীর্ষ ব্যবসায়িক এসোসিয়েশন, যারা সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশ ও জনগণকে সহায়তা করছে। বর্তমানের পদক্ষেপ হিসেবে দেশে নির্মাণ শিল্পে দক্ষ জনশক্তি তৈরীতে অবদান রাখার জন্য এ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছে। দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত দক্ষ জনশক্তির বিপুল চাহিদা আছে। প্রশিক্ষণ আমাদের জনশক্তির শ্রম মূল্যকে বাড়িয়ে দেয় যা ব্যক্তিগতভাবে তাদেরকে ও রেমিটেন্স আহরণে দেশকে সহায়তা করে। জনশক্তিই বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রধান ভরসা। বিশেষ করে বিদেশে অদক্ষ শ্রমিকরা তেমন আয় করতে পারে না। কিন্তু প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশ গেলে শ্রমিকরা নিজেরাও বেশী লাভবান হবে এবং প্রচুর রেমিটেন্স দেশে পাঠাতে পারবে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে উন্নত প্রযুক্তির সমš^য়ে সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ নিতে যারা আগ্রহী “রিহ্যাব ট্রেনিং ইনস্টিটিউট” তাদেরকে আহবান করছে।

 

প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

রিহ্যাব এর সাবেক প্রেসিডেন্ট বর্তমানে মাননীয় বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জনাব নসরুল হামিদ, এম.পি এর অনেক দিনের তাগিদ রয়েছে এ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার। তার সহায়তায় ইতিমধ্যে উত্তরা ৩য় পর্বে সরকার থেকে রিহ্যাব ২৪ (চব্বিশ) কাঠা জমিও বরাদ্দ পেয়েছে। সেখানে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ভবন নির্মাণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তার জন্যই রিহ্যাব এখনই এ ইনস্টিটিউট চালু করতে রিহ্যাব এর বর্তমান প্রেসিডেন্ট জনাব শামসুল আলামিন-এর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের মে মাসে রিহ্যাব ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ৫ (পাঁচ) টি ক্যাটাগরির ট্রেড কোর্স নিয়ে ঢাকায় ২১৯, মাজার রোড, ১ম কলোনী , মিরপুর, ৩য় ও ৪র্থ তলায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। ইহা বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB) কর্তৃক অনুমোদিত।বাকাশিবো নিবন্ধন নং-৫০৬১০। এতে কেবল নির্মাণ শ্রমিক প্রশিক্ষণ ছাড়াও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের সকল স্তরে প্রশিক্ষণ কর্মসূচী চলবে। দেশ ও সমাজকে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যেই এ কার্যক্রম। বাংলাদেশে এই সর্ব প্রথম নির্মাণ শ্রমিকদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের জন্য অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক মন্ডলী দ্বারা CBTA নীতিমালা অনুসরণ করে নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে । এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষণ নীতিমালা, শিক্ষণ পদ্ধতি, কর্মের সুযোগ সৃষ্টি ও দক্ষ জনশক্তি তৈরীর নির্ভরযোগ্য আদর্শ প্রতিষ্ঠান। আশা করছি ৩/৪ বছরের মধ্যে সরকারের বরাদ্দ করা জমিতে ইনস্টিটিউট ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলে “রিহ্যাব ট্রেনিং ইনস্টিটিউট” তার স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থান নিবে। রিহ্যাব এর সদস্য প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার অধিকাংশ প্রকৌশলী, স্থপতি ও উচ্চতর ব্যবস্থাপকগণ পার্টটাইম হিসেবে পাঠদান করেন। এছাড়াও ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের নিয়োগকৃত প্রশিক্ষকগণ সার্বক্ষণিক ট্রেনিং কর্মসূচি পরিচালনা করেন। বর্তমানে সিভিল ও ইলেকট্রিক্যাল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ছাত্র-ছাত্রীদের ইন্ডাষ্ট্রিয়াল এ্যাটাচমেন্ট প্রশিক্ষণ করানো হয়। ভবিষ্যতে ইনস্টিটিউটকে আরো উচ্চতর পর্যায়ে উন্নিত করা হবে। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা ডিগ্রী প্রদান এবং পরবর্তীতে বি.এস.সি. ডিগ্রী প্রদানের উচ্চতর শাখা খোলা হবে।